নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নোয়াগ্রাম দক্ষিণপাড়া গ্রামের একটি বিলে ঘুড়ির সুতা খুঁজতে গিয়ে হুসাইন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত হুসাইন ওই গ্রামের সাবু শেখের ছেলে এবং স্থানীয় শাহবাগ ইউনাইটেড একাডেমির সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে হুসাইনসহ সমবয়সি চারজন বাড়ির পাশে ফুটবল খেলছিল। একপর্যায়ে হুসাইন স্থানীয় একটি দোকান থেকে চকলেট ও কেক কিনে বিলের দিকে ঘুড়ি ওড়াতে যায়। হঠাৎ ঘুড়ির সুতা কেটে গেলে সেটি খুঁজতে বিলের মধ্যে ছুটে যায়।
এদিকে ফুটবল খেলা শেষে হুসাইনের তিন বন্ধু শাপলা তুলতে বিলে গিয়ে তাকে নরম মাটিতে মাথা নিচু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তারা চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হুসাইনের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
কালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিবাকর সরকার জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। হুসাইনের গলায় ঘুড়ির সুতা প্যাঁচানো ছিল। এছাড়া শরীরে উল্লেখযোগ্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
হুসাইনের মৃত্যুর খবর পেয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাবা দেশে ফিরে এসেছেন। রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় অনেকের দাবি, বিকেলে ফাঁকা বিলে ঘুড়ির সুতা খুঁজতে যাওয়ার পর হুসাইনকে জ্বিনে মেরে ফেলেছে। তাদের ভাষ্য, তাকে মাথা নিচু করে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছিল। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পুলিশও এ বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করেনি।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, “হুসাইনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খুলনা গেজেট/এএজে

